রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় আমতলী ধর্মোদয় বন বিহারে ৩১ তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার পঞ্চশীল গ্রহন, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডুদান,হাজার প্রদীপদান ও আকাশ প্রদীপ দান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
পরে বেলা ২টায় কল্পতরু ও কঠিন চীবর শোভাযাত্রা মঞ্চে আনায়নের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এ সময় পঞ্চশীল গ্রহণ, কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানসহ বিভিন্ন দ্রব্য দান উৎসর্গ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজীদ-বিন-আখন্দ, যক্ষা বাজার ক্যাম্প অধিনায়ক মেজর মুহাম্মদ সিফাত রায়হান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন শাহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি দীপেন দেওয়ান, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, মৈদং ইউপি চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আল্পনা চাকমাসহ শিক্ষক ও প্রগতিশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে সুমন মহাস্থবির, জিনপ্রীয় মহাস্থবির, জিনবোধী মহাস্থবির।
আদিকল্যান মহাস্থবির, দ্বিপানন্দ মহাস্থবির ধর্মদেশনা প্রদান করেন। কঠিন চীবর দানে স্থানীয় ভিক্ষুসংঘ, উপাসক-উপাসিকা ও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিগিরেশ্বর চাকমা কঠিন চীবর (বৌদ্ধ সাধকদের পরার কাপড়) উপস্থিত হাজার হাজার নারী-পুরুষের সাধুবাদ ধ্বনির মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করেন। পরে তা সব প্রাণীর সুখ ও মঙ্গল কামনায় উৎসর্গ করা হয়।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেতন চাকমা। উল্লেখ্য বহু বছর আগে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়ম অনুসারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি, রং করা, কাপড় বোনা ও চীবর তৈরি করে ভিক্ষুদের নিকট দান করা হয়। পাশাপাশি বাজার থেকে কাপড় কিনে সেলাই করেও চীবর দান করা হয়।




