দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে কাপ্তাই হ্রদে আবারও শুরু হয়েছে মাছ আহরণ। মাছ ধরার প্রথম দিনেই রাঙামাটির কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ৫৩ হাজার ১৯৮ কেজি মাছ এসেছে, যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬৪ টাকা। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ মাছ অবতরণ কেন্দ্রে আনেন জেলেরা।
কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, প্রথম দিনে কাচকি, চাপিলা, টেংরা, বাচা, আইড়, কালিগুনিয়া, পাবদা ও বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে। এসব মাছ কাপ্তাই হ্রদের বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি, মাইনি, শুভলং, গাছকাটা ছড়া ও রাইংখং খালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ধরা হয়েছে। শুল্ক পরিশোধের পর ব্যবসায়ীরা বরফ দিয়ে মাছ সংরক্ষণ করে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন পর হ্রদে মাছ ধরা শুরু হওয়ায় কেন্দ্রটিতে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরতে পেরে সবার মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশে হ্রদে কচুরিপানা জমে থাকায় নৌকা ভেড়াতে জেলেদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ আহরণ, বাজারজাত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হ্রদের পানির পরিমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। সোমবার মধ্যরাতে সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা পুনরায় হ্রদে মাছ ধরতে নামেন।




