পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাঙামাটিতে এক মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাঙামাটি সদরের ‘আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস’-এর হলরুমে “Sharing Workshop with DPHE on Water Provisions and Sanitation in CHT” শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি)। হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর সমন্বয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এফআইভিডিবি-এর ওয়াশ ম্যানেজার রনধীর দাশের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিপিএইচই-এর নির্বাহী, সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
১০টি উপজেলায় ২০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা
কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য অঞ্চলের ১০টি উপজেলার প্রতিটিতে দুটি করে মোট ২০টি নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ বা পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পারিবারিক ল্যাট্রিন ও হাত ধোয়ার স্টেশনসহ মোট ৩৩৬টি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা তৈরি বা সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিতে ২০টি ‘পানি উৎস ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে। প্রতিটি কমিটিকে পরিচালনা ও ক্ষুদ্র মেরামতের সুবিধার্থে ৩০ হাজার টাকা করে রিজার্ভ ফান্ড প্রদান করা হবে।
কর্মশালায় পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় টেকসই ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে কারিগরি উপস্থাপনা করেন এফআইভিডিবি-এর ওয়াশ স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
তিনি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম, সৌরচালিত গভীর নলকূপ, রিংওয়েল এবং স্প্রিংভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিক নকশা তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সীমিত ব্যয়ে অধিক মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা সম্ভব।
মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিক হিমেল চাকমা, এম কামাল উদ্দিন প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও তা থেকে উত্তোরণের পথ সমূহ নিয়ে আলোকপাত করেন। সাংবাদিক হিমেল চাকমা বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতায় একই নকশায় একই খরচে সব ইউনিয়নে কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হবে। এগুলো মাথায় রেখে অগ্রসর হতে হবে। না হলে সফলতা আসবে না।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কেবল জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়; এটি পুষ্টি, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম মূল ভিত্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তারা।




