সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬
মূলপাতাএনজিওরাঙামাটিতে মা ও শিশু সহায়তা প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

রাঙামাটিতে মা ও শিশু সহায়তা প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সমন্বিত মা ও শিশু সহায়তা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস’ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা সোমবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডব্লিউএফপির অর্থায়নে, স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
এ সভায় আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই ৬ মাস মেয়াদী এই প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ এবং পরবর্তীতে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হবে। যাতে অপুষ্টি ও খর্বকায় হওয়ার ঝুঁকি কমে।
খেলাধুলার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং প্রাক-স্কুলের জন্য প্রস্তুত করা হবে। কোন অসুস্থতা জনিত সমস্যা দেখা দিলে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রেফারেল সেবা এবং মায়ের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

সভায় প্রধান অতিথির রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “সকলের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষ অতিথির রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, “রাঙামাটির সবকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে প্রসব সেবার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এসব হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ৯৬-৯৭টি প্রসবের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, বাস্তবে হচ্ছে মাত্র ৫টির মতো।”

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৩ শতাংশ হলেও পার্বত্য অঞ্চলে এই হার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ী এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে আয়োজকরা জানান, গত ১ জুলাই থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করতে গিয়ে নির্ধারিত কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

আশিকা নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমার সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি মনোয়ার হোসেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউপ্রু মেরী, ডব্লিউএফপির রাঙামাটি ফিল্ড অফিসার সুমিত্র চাকমা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের মো. সাইফুল ইসলাম এবং জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ। বক্তারা নিজ নিজ দপ্তরের ভূমিকা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্প সফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Google search engine
Google search engine
Google search engine

Recent Comments