সপ্তাহ খানেক আগেও যেখানে জ্বালানি তেলের জন্য ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি, সেখানে এখন সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র রাঙামাটির পেট্রোল পাম্পগুলোতে। শহরের পাম্পগুলোতে এখন আর আগের মতো ভিড় নেই, নেই তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য অবস্থায় রয়েছে। যেখানে দিনরাত গাড়ির জটলা লেগে থাকত, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা।
পাম্প কর্মীরা অলস সময় পার করছেন। রাজবাড়ি এসএন পেট্রোলিয়ামের তেল বিতরণ কর্মী রিপন ত্রিপুরা বলেন, “সপ্তাহখানেক আগেও আমাদের দম ফেলার সময় ছিল না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন যে, সারা দিনে হাতেগোনা কয়েকটি গাড়ি আসছে।
শুক্রবার সব মিলিয়ে মাত্র ৫শ লিটারের মত তেল বিক্রি হয়েছে। আগে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে এক গাড়ি (৪ হাজার লিটার) তেল বিক্রি করা হয়েছিল। সে তুলনায় এখন নগণ্য।
ম্যানেজার মো ইদ্রিস বলেন, ডিজেলের কথা বাদ। মোটর সাইকেল তো আসার কথা কিন্তু আসছে না। তার কারণ হলো তারা মজুদ করেছিল।
সংকট বা দাম বাড়ার আতঙ্কে গত সপ্তাহে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের মাঝে হুড়োহুড়ি দেখা গিয়েছিল। সেই আতঙ্কে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করে রেখেছিলেন।
স্থানীয় পরিবহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জ্বালানি সংকট বা দাম বৃদ্ধির একটি গুজব বা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যার যতটুকু সম্ভব তেল সংগ্রহ করেছিলেন। এখন সেই মজুত তেল দিয়েই গাড়ি চলায় নতুন করে কেউ পাম্পমুখী হচ্ছেন না।
তবলছড়ি মা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক বিকাশ দে বলেন, আমার পাম্পে তেল বিক্রি ৮০ শতাংশ কমেছে। পর্যটক নেই। স্থানীয় মোটর সাইকেল চালকরাও আসছে না। কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমির সেচ প্রয়োজন না হওয়া কৃষকরাও তেল নিতে আসছে না। কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধ ফলে বোটে ডিজেলের প্রয়োজন হচ্ছে না। সব মিলিয়ে তেল বিক্রি অস্বাভাবিক কমেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




