রাঙামাটির সদর উপজেলার জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় রূপন চাকমা (১২) নামে এক পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র খুন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত স্বপন চাকমা (২২) খুনের কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছে।
সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রূপন চাকমা পার্শবর্তী কাপ্তাই ইউনিয়নের হরিণছড়ার বাজ্জেতুলি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীধন চাকমার ছেলে।
নিহত রূপন চাকমা পড়াশোনার সুবিধার জন্য জীবতলী ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় তার খালু অশ্বিনী কুমার চাকমার (৫০) বাড়িতে থাকত।
আত্মসমর্পণ করা স্বপন চাকমা অশ্বিনী কুমার চাকমার প্রতিবেশী রিময় লাল চাকমার ছেলে। অশ্বিনী কুমার ও রিময় চাকমা উভয়ই পেশায় জেলে ও কৃষক।
জীবতলীর হেডম্যান হিটলার দেওয়ান বলেন, সোমবার বিকেলে অশ্বিনী কুমার ও তার স্ত্রী, রিময় লাল ও তার স্ত্রী মাছ ধরতে বা কোনো কাজে কেউই বাড়িতে ছিলেন না।
এ সময় দুই বাড়িতে ছিল রূপন চাকমা ও স্বপন চাকমা। এ সুযোগে স্বপন চাকমা রূপন চাকমাকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে গলা কেটে খুন করে তার কক্ষের ভেতরে খাটের (চৌকি) নিচে লুকিয়ে রেখে কাপ্তাই নৌবাহিনী ক্যাম্প সংলগ্ন পুলিশের কাপ্তাই সার্কেলের কার্যালয়ে যায়। সেখানে পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনাটি খুলে বললে তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহেদুল ইসলাম বলেন, স্বপন চাকমা আমার কার্যালয়ে এসে ঘটনা বলতে থাকে। আমি ছেলেটির কথাবার্তা শুনে প্রথমে অবাক হয়েছিলাম। পরে আমি জীবতলী হেডম্যান হিটলার দেওয়ানের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করি। পরে হেডম্যানসহ আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করি। স্বপন চাকমা যে মানসিক ভারসাম্যহীন, সেটা বলা যাচ্ছে না।
তবে সে মূলত ছোট বাচ্চাদের সাথে মেশে। তার নৌকা আছে। মাছ ধরে। বাজারে যায়। তবে বাবা-মায়ের সাথে থাকে না। আলাদা রান্না করে খায়। তার কাছে ১০ হাজার টাকাও পাওয়া গেছে। দুই দিন আগে সে তার মাছ ধরার নৌকাটি বিক্রি করে। কাপ্তাই বাজার থেকে একটি ছুরিও কিনে এনেছে। যেটি দিয়ে রুপনকে খুন করে।
হেডম্যান হিটলার দেওয়ান বলেন, স্বপন চাকমা পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন বলা যাবে না। সে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করে। মাছ ধরে। বাজারে যায়। কেনাবেচা করে। মোবাইল ব্যবহার করে। সব স্বাভাবিক। তবে মাঝে মাঝে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। কোনো কারণে ছেলের ওপর সে ক্ষিপ্ত ছিল, তাই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
জাহেদুল ইসলাম আরও বলেন, স্বপন আমার কার্যালয়ে আসার পথে সেনাবাহিনী, আনসার বা নৌবাহিনীর কাছে যেতে পারত। কিন্তু সে তাদের কাছে না গিয়ে আমার কাছে এসেছে। সে জানে এ সমস্ত কাজ পুলিশ করে। তাই স্বপন চাকমা যে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন, সেটাও বলা যাচ্ছে না। ভিক্টিমের সাথে কোনো বিষয়ে স্বপন চাকমার ক্ষোভ থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
লাশ উদ্ধার করে আসামিকে রাঙামাটি কোতোয়ালি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা বিষয়টি দেখছে।
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বপন চাকমাকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।




