কানাডা সরকারের অর্থায়নে, আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রোগ্রেস প্রকল্প এর সহযোগিতায় এবং আশিকা ডেভেলাপমেন্ট এসোসিয়েটস এর আয়োজনে ১৫ জন উৎপাদক দলের অংশগ্রহনে ১২ দিনব্যাপী বাঁশ হস্তশিল্প পন্যর উপর প্রশিক্ষনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডিউ ক্রাফটস (DEW Crafts)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাঙামাটি শহরের কে.কে রায় সড়কে অবস্থিত আশিকা কনভেনশন পার্কে ১২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিক রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের এজিএম জনাব ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আশিকা ডেভেলাপমেন্ট এসোসিয়েটস এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিউ ক্রাফটস এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শাহ আবদুস সালাম বলেন, সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কাজ পরিচালিত করা হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য এলাকার ঐতিহ্যগত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বাঁশজাত পণ্য উৎপাদন ও মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করা এবং পণ্যের প্রচার-প্রসার বৃদ্ধি করা এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনগণের জীবিকা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একতা নেটওয়ার্ক-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব নুরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণের আয়োজনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আশিকা ডেভেলাপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস-এর ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট কক্সি তালুকদার প্রশিক্ষণের গুরুত্বারোপ করে বলেন, ILO এর এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন মূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাঁশজাত পণ্যের মান উন্নত হবে এবং কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যদি প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা এবং পেশাগতভাবে শেখার মনোভাব থাকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, এ উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, চাহিদার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন, মানসম্পন্ন পণ্যের অভাব, বাজার সংযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি, কারিগরদের যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাব, বাজার সম্পর্কে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং প্রমোশনাল কার্যক্রমের দুর্বলতার কারণে এ শিল্প আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হলে বাঁশ শিল্প পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লব চাকমা এ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ প্রশিক্ষণকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এর ফলাফল অবশ্যই ইতিবাচক হবে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এ পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হবে। তবে সেক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও কার্যকরী উদ্যোগ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আশিকা ডেভেলাপমেন্ট এসোসিয়েটস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুব্রত খীসা, ফিন্যান্স ম্যানেজার যুগান্তর চাকমা, ProGRESS-IWED প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত চাকমা এবং প্রকল্পের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ। প্রশিক্ষণে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১৫ জন বাঁশশিল্পের কারিগর অংশগ্রহণ করেন। এ প্রশিক্ষণ আগামী ১৪ মে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।




