সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬
মূলপাতাঅপরাধরাজস্থলীতে মরণফাঁদ কুটুরিয়া পাড়া ব্রিজ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

রাজস্থলীতে মরণফাঁদ কুটুরিয়া পাড়া ব্রিজ: জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষের

 

রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের কুটুরিয়া পাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা জরাজীর্ণ এই ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। জরাজীর্ণ ব্রিজের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করলেও যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ এবং আড়াই মিটার প্রস্থের এই ব্রিজটির এখন কঙ্কালসার অবস্থা। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে এবং কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের মরচে ধরা রড বেরিয়ে এসেছে। পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ব্রিজটির একপাশে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম ও মাদরাসা থাকায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে এই ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী মো. সাইফুল বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে আমাদের এই ব্রিজ পার হতে হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখানে দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত এই ব্রিজটি ৬-৭ বছর আগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও তা মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে ব্রিজের ভাঙা অংশে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করছেন। ব্রিজের অবস্থা আরও অবনতি হলে বাঙ্গালহালিয়া বাজারের সঙ্গে এই এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাইয়ুম হোসেন মিরাজ বলেন, “গত কয়েক বছরে এখানে বেশ কিছু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিকল্প পথ না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে এই মরণফাঁদ ব্যবহার করছে।”

ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং জানান, “ব্রিজটি আমাদের এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছি এবং নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Google search engine
Google search engine
Google search engine

Recent Comments