আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য রাঙামাটি জুরাছড়ি উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং নির্বাচন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জোনের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমন্বয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বনযোগীছড়া জোনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় জোন উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ মুশফাক আমিন চৌধুরী, পিএসসি, জোনের আওতাধীন সকল সাব-জোন কমান্ডারগণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বায়েজীদ বিন-আখন্দ, সুবলং রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হামিদ, জুরাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউপি চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, মৈদং ইউপি চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা, কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার রায়, জুরাছড়ি থানার প্রতিনিধি, বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর প্রতিনিধি, আনসার ব্যাটালিয়ন এর প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পাশাপাশি জুরাছড়ি জোনে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সকল প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভোট কেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ, নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন ও সংরক্ষণ, ভোটারদের অবাধ ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ, এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—কিভাবে সমন্বিত ও সমন্বয়পূর্ণ উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করে একটি নির্বিঘ্ন নির্বাচন আয়োজন করা যায় এবং একটি অভেদ্য নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এ প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সম্মানিত জোন কমান্ডার লে: কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, আর তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে সকল সংস্থাকে একীভূতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সাধারণ ভোটাররা কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। নির্বাচনকে কোনভাবে যেন কেউ প্রভাবিত করতে না পারে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি বারংবার গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা জুরাছড়ি জোনে নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে।
সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীগণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




