বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
মূলপাতাঅপরাধশিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটে জর্জরিত জুরাছড়ি ভুবনজয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষক ও অবকাঠামো সংকটে জর্জরিত জুরাছড়ি ভুবনজয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় ৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা অর্জনের একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভুবনজয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত এই বিদ্যালয়টি। সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

২০২২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হলেও হয়নি শেষ। তৎকালীন সরকার পতনের সুযোগে ঠিকাদার প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ উত্তোলন করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই আত্মগোপনে চলে যায়।

বর্তমানে ভবনের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও নির্মাণ সামগ্রী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ নিজ উদ্যোগে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবী তদারকির দায়িত্বরত উপসহকারি প্রকৌশলী ইসলাম খান পারভেজের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট  চরম আকার ধারণ করেছে। প্রধান শিক্ষক পদটি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ একজন। সহকারী শিক্ষক ১৩টি পদ থাকলেও কাগজে-কলমে কর্মরত রয়েছেন ৫ জন। তৃতীয় শ্রেণির দুটি ও চতুর্থ শ্রেণির চারটি পদ প্রায় দুই যুগ ধরে শূন্য রয়েছে।

রবিবার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে ভবন নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ ঝুঁকিপূর্ণভাবে পড়ে রয়েছে।

বিদ্যালয়ের রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সমাবেশ পুরোনো ভবনের বারান্দায় ও চলাচল রাস্তায় শিক্ষার্থীদের দাড়িয়ে করা হচ্ছে। সমাবেশ শেষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠ নিচ্ছেন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর সুজন চাকমা (সরকারি নিয়োগ প্রাপ্ত নয়)।

নবম শ্রেণীতে ক্লাশ নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক মো. আল-আমিন হোসেন এবং সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান করছেন সিনিয়র শিক্ষক শান্তিময় চাকমা। অফিস কক্ষে ভর্তি কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন ইলিয়াস আহমেদ।

শিক্ষক অনুপস্থিতির কারণে অষ্টম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বারান্দায় ঘোরাফেরা ও কোলাহল করতে দেখা যায়, যা স্বাভাবিক পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের বেসরকারি শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বলেন, “গত বছর বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঠিক তদারকি না থাকায় কিছু শিক্ষক সুযোগ নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। কেউ কেউ মাসে দুই–এক দিন এসে চলে যান।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো. ফরহাদুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুনে যোগদান করলেও এ পর্যন্ত ১৫ দিনও ক্লাশ নেননি।

এদিকে বছরের প্রথম কার্যদিবসে সহকারী প্রধান শিক্ষক রাজিব ত্রিপুরা ছুটিতে থাকলেও বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. আরমান শাহ, মো. ফরহাদুল ইসলাম ও মো. মেহেদী হাসান। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

‍‌‌”সিনিয়ির শিক্ষক শান্তিময় চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংকট রয়েছে। তবে পদায়িত শিক্ষকরা নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলে গুনগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, কিছু শিক্ষক নিজেদের মাদের ফোন ধরিয়ে দিয়ে ছুটিতে চলে যান। গেলে আসার আর খবর থাকে না।”

জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট ও অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Google search engine
Google search engine
Google search engine

Recent Comments