মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬
মূলপাতাঅপরাধইউপিডিএফ ‘সন্ত্রাসী দল; রাঙামাটি থেকে চাঁদা আদায় করে ২০ কোটি টাকা

ইউপিডিএফ ‘সন্ত্রাসী দল; রাঙামাটি থেকে চাঁদা আদায় করে ২০ কোটি টাকা

পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) একটি ‘সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক।
একই সাথে সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমার সেনাবাহিনীর সামাজিক কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে তোলা প্রশ্নের করা সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করার দিন বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে।”
মঙ্গলবার বিকালে রাঙামাটি শহরের চিংহ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘রাঙ্গামাটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে সেনা কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, সেনাবাহিনী পার্বত্যাঞ্চলে কেন ফুটবল খেলা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা নানা প্রশিক্ষণমূলক সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
মাইকেল চাকমার সেই প্রশ্নের জবাবে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, “মাইকেল চাকমার এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা বলতে চাই—সেনাবাহিনী এ দেশকে ভালোবাসে, সেনাবাহিনী এই অঞ্চলকে ভালোবাসে, সেনাবাহিনী এই অঞ্চলের মানুষকে ভালোবাসে। সুতরাং আপনারা যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছেন, সেই দিন বোধহয় অনেক আগে চলে গেছে। জনগণ কিন্তু বুঝতে পারে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক দূরযোগের প্রসঙ্গ টেনে এনে সেনাকর্তা উল্টো ইউপিডিএফের সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি ইউপিডিএফ ও মাইকেল চাকমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মাইকেল চাকমা তো ইউপিডিএফের মতো সন্ত্রাসী দলের একজন মুখপাত্র। উনি প্রায় বিভিন্ন ধরনের কোশ্চেন করেন। তা আমি উনাকে আজকে একটা কোশ্চেন করে যেতে চাই—যেহেতু সম্প্রতি যে আমাদের অতিবৃষ্টি হলো এবং ভূমিধস হলো, এলাকাবাসী অনেক পানিবন্দী ছিল; আপনারা তো প্রতি মাসে রাঙামাটি এরিয়া থেকেই ১৫-২০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেন! কই, একটা টাকাও তো আপনারা খরচ করলেন না এলাকাবাসীর জন্য!”
ইউপিডিএফ পাহাড়ি এলাকা ও স্থানীয় জনগণকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে ইঙ্গিত করে সেনাকর্তা আরও বলেন, “এলাকাবাসীকে তো বোকা মনে করবেন না—রাঙামাটি অথবা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে। আমি আপনাদেরকে একটা ফ্রি অ্যাডভাইস দিতে চাই; ফ্রি অ্যাডভাইসটা হলো— জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না।
পার্বত্য অঞ্চলে ইউপিডিএফের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণই এখন সোচ্চার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আপনাদেরকে মোকাবেলা করার জন্য সেনাবাহিনীই আমার মনে হয় দরকার নেই, এলাকাবাসীই আপনাদেরকে যা প্রয়োজন তা করে আপনাদেরকে যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে পাঠিয়ে দেবে।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইউপিডিএফ বা যে কোনো গোষ্ঠীর অপপ্রচারে কান না দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন, নারী স্বাবলম্বীকরণ, ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল ট্রেনিং এবং ছানি অপারেশনের মতো জনকল্যাণমূলক ও টেকসই উন্নয়নমূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখবে।
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Google search engine
Google search engine
Google search engine

Recent Comments