খাগড়াছড়ি সিনিয়র সাংবাদিক জিতেন বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে খাগড়াছড়ি সদর থান পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছে।
জিতেন বড়ুয়া বেসরকারি টেলিভিশন সময় এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি। তিনি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটর সাইকেলে চলার সময় দুইজন সাদা পোশাকের পুলিশ ওনাকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু জানিয়েছেন, জিতেন বড়ুয়া’র বিরুদ্ধে অন্তর্বতী সরকারের সময় দায়ের পাঁচটি জিআর মামলা রয়েছে। গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায় , জিতেন বড়ুয়া’র বিরুদ্ধে রুজু হওয়া পাঁচটি মামলার মধ্যে চারটিই হলো পাঁচ-সাত বছর আগে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার মামলা। আর একটি হলো, ৪ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগের মামলা।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মূলত: খাগড়াছড়ির বর্তমান এমপি ও বিএনপি নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ইন্ধনে খাগড়াছড়ি জেলাশহর, ঢাকা, চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার একডজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সর্বোচ্চ একডজন পর্যন্ত মামলা রুজু করান। এসব মামলা সুকৌশলে বিএনপি নেতাদের বাদী করে পুলিশকে প্রভাবিত করে জিআর মামলা হিসেবে তালিকাভূক্ত করান।
এ সব মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি প্রদীপ চৌধুরীকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে ‘মব’ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পাঁচ মাসের মাথায় প্রদীপ চৌধুরী নিম্ন আদালতে বার বার আবেদন করেও জামিন না পেয়ে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।
জিতেন বড়ুয়া ছাড়াও এখনো খাগড়াছড়ির সাংবাদিকরা কেউ কেউ মামলা হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ ছাড়া ঢাকার একটি খাগড়াছড়ি জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এ ছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগে আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক আবু বক্কর সিদ্দিক, রামগড় উপজেলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন এবং দীঘিনালা প্রতিনিধি আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ‘পিবিআই’র তদন্তে মিথ্যা অভিযোগ থেকে রেহায় পান।




