বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬
মূলপাতাঅপরাধসীমান্তে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র- গোলাবারুদ চোরাচালান বন্ধে বিজিবি বদ্ধপরিকর

সীমান্তে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র- গোলাবারুদ চোরাচালান বন্ধে বিজিবি বদ্ধপরিকর

আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ন সীমান্ত এলাকায় টহল তৎপরতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে । সীমান্তে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র- গোলাবারুদ চোরাচালান বন্ধে বিজিবি বদ্ধপরিকর। চলতি বছরে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময় অভিযানে মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ জনগণ যাতে অবৈধ অস্ত্র ও সন্দেহজনক লোকজনের গতিবিধি ও চোরাচালান বিষয়ে বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়ত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে জনসচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রোববার সকাল ১০ টার দিকে রাঙামাটির কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের (৪১ বিজিবির) ওয়াগ্গাছড়া ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের বিনোদন রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যামে কাপ্তাই ৪১ বিজিবি ব্যাটালিনের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাওসার মেহেদী এসব কথা বলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ৪১ বিজিবি ব্যাটালিনের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাওসার মেহেদী বলেন, বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচার রোধ, আন্তঃ সীমান্ত অপরাধ দমন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কাজ করে আসছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সততা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সাথে অর্পিত দায়িত্ব নিরলসভাবে পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে ভারতের সঙ্গে চার হাজার ১৫৬ ও মায়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার। এসবের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা ৫৪০ কিলোমিটারনিয়ে বেষ্টিত। যা চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার অন্তর্গত আমতলী হতে রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার কচুতলী পর্যন্ত বিস্তৃত। বিজিবি দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের আওতাধীন ১৩টি ব্যাটালিয়ন সীমান্তের সুরক্ষা প্রদান করছে। একই সঙ্গে দূর্গম সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণে বিজিবি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি অধিনায়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিটগুলোর অভিযানে চলতি বছরে ২৯ জন আসামীসহ বিপুল পরিমান মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্যে ২৮ কোটি ত্রিশ লক্ষ আটাশ হাজার ৮১৯ টাকা। চলতি বছরে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন, চট্টগ্রামের অধীনস্থ ইউনিট সমূহে ৮১৫ বোতল বিদেশী মদ ও ৪০৮ লিটার দেশীয় মদ, ৩৭৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৬২ বোতল বিয়ার, ৫২০টি মদ তৈরীর ট্যাবলেট, ৪৪৪ কেজি ৫১৩ গ্রাম গাঁজা ও ১২১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ। এছাড়া ৬৬৭টি গরু, ১৭টি মহিষ ও ৩৭টি ছাগল জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ২টি দেশীয় রাইফেল, ২ টি ১২ বোর পিস্তল, ১টি ১২ বোর শর্ট গান, ১টি ৯ এম এম পিস্তল (যুক্তরাষ্ট্র), ১টি ৮ এম এম পিস্তল (ভারতীয়), ৫০০ গ্রাম গান পাউডার, ১ টি ১ নলা দেশীয় বন্দুক, ১ টি এসএমজি (এম-৪, এ-১), ২টি ম্যাগাজিন ও দেশীয় অস্ত্র ৫০০টি (হাসুয়া ও দা) উদ্ধার করা হয়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Most Popular

Google search engine
Google search engine
Google search engine

Recent Comments